খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:১৬ পিএম
বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত একটি ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলো গোপালগঞ্জ। একটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সরকারি সেবা প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদের ভূমিকা অপরিসীম। গোপালগঞ্জ জেলার গ্রামীণ জনপদ, কৃষি অর্থনীতি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মূল ভিত্তি হলো এর সুবিন্যস্ত ইউনিয়নসমূহ।
প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে গোপালগঞ্জ জেলাকে মোট ৫টি উপজেলায় বিভক্ত করা হয়েছে। এই ৫টি উপজেলার অধীনে সর্বমোট ৬৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়ন গঠিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম ও ওয়ার্ডের সমন্বয়ে, যা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবচেয়ে তৃণমূল স্তর হিসেবে কাজ করে।

ভৌগোলিক আয়তন, জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়নের সংখ্যা ভিন্ন। নিচে গোপালগঞ্জ জেলার ৫টি উপজেলার অন্তর্গত ৬৮টি ইউনিয়নের একটি কাঠামোগত তালিকা দেওয়া হলো:
গোপালগঞ্জ সদর হলো জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র। এই উপজেলায় জেলার সর্বোচ্চ সংখ্যক ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মোট ২১টি ইউনিয়ন অবস্থিত।
| ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম | ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম | ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম |
| ০১ | জালালাবাদ | ০৮ | লতিফপুর | ১৫ | দুর্গাপুর |
| ০২ | বৌলতলী | ০৯ | সাতপাড় | ১৬ | কাজুলিয়া |
| ০৩ | শুকতাইল | ১০ | সাহাপুর | ১৭ | কাঠি |
| ০৪ | চন্দ্রদিঘলিয়া | ১১ | হরিদাসপুর | ১৮ | মাঝিগাতী |
| ০৫ | গোপীনাথপুর | ১২ | উলপুর | ১৯ | রঘুনাথপুর |
| ০৬ | পাইককান্দি | ১৩ | নিজড়া | ২০ | গোবরা |
| ০৭ | উরফি | ১৪ | করপাড়া | ২১ | বোড়াশী |
ঐতিহাসিক পটভূমি: গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ‘উলপুর ইউনিয়ন’ ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এখানে বিখ্যাত “উলপুর জমিদার বাড়ি” অবস্থিত, যা পর্যটক ও ইতিহাস অন্বেষণকারীদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান।
টুঙ্গিপাড়া গোপালগঞ্জ জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা, কারণ এটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান। এই উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, মোট ৫টি।
১. পাটগাতি ইউনিয়ন
২. ডুমুরিয়া ইউনিয়ন
৩. গোপালপুর ইউনিয়ন
৪. কুশলী ইউনিয়ন
৫. বর্ণী ইউনিয়ন
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স’ পুরো বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি আবেগ ও শ্রদ্ধার স্থান। পাটগাতি ইউনিয়ন ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার সীমানায় অবস্থিত এই স্থানটি কেন্দ্র করে এখানকার প্রশাসনিক নিরাপত্তা বলয় সর্বদা সুসংহত থাকে।
কোটালীপাড়া একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ। এখানকার বিস্তীর্ণ জলাভূমি ও বিল অঞ্চল স্থানীয় কৃষিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। কোটালীপাড়া উপজেলায় মোট ১২টি ইউনিয়ন রয়েছে।
| ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম | ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম |
| ০১ | বান্ধাবাড়ী | ০৭ | কান্দি |
| ০২ | সাদুল্লাপুর | ০৮ | হিরণ |
| ০৩ | রাধাগঞ্জ | ০৯ | পিঞ্জুরী |
| ০৪ | কলাবাড়ী | ১০ | শুয়াগ্রাম |
| ০৫ | রামশীল | ১১ | কুশলা |
| ০৬ | আমতলী | ১২ | ঘাঘর |
গোপালগঞ্জের উত্তরাংশে অবস্থিত কাশিয়ানী উপজেলা রেলওয়ে ও সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এই উপজেলায় মোট ১৪টি ইউনিয়ন রয়েছে।
| ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম | ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম |
| ০১ | মহেশপুর | ০৮ | বেথুড়ি |
| ০২ | কাশিয়ানী | ০৯ | রাজপাট |
| ০৩ | সাজাইল | ১০ | ফুকরা |
| ০৪ | পারুলীয়া | ১১ | পুইশুর |
| ০৫ | মাহমুদপুর | ১২ | নিজামকান্দি |
| ০৬ | রাতইল | ১৩ | সিংগা |
| ০৭ | ওড়াকান্দি | ১৪ | হাতিয়াড়া |
সাংস্কৃতিক গুরুত্ব: কাশিয়ানী উপজেলার ‘ওড়াকান্দি ইউনিয়ন’ মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান হিসেবে উপমহাদেশের বিখ্যাত একটি জায়গা। প্রতি বছর এখানে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মতিথিতে বিশাল স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
মুকসুদপুর গোপালগঞ্জ জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা (ইউনিয়ন সংখ্যার ভিত্তিতে)। এটি ফরিদপুর জেলার সীমান্তবর্তী একটি অঞ্চল। মুকসুদপুর উপজেলায় মোট ১৬টি ইউনিয়ন রয়েছে।
| ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম | ক্রমিক | ইউনিয়নের নাম |
| ০১ | পশারগাতি | ০৯ | দিগনগর |
| ০২ | গোবিন্দপুর | ১০ | রাঘদী |
| ০৩ | খান্দারপাড় | ১১ | গোহালা |
| ০৪ | বহুগ্রাম | ১২ | মোচনা |
| ০৫ | বাঁশবাড়িয়া | ১৩ | উজানী |
| ০৬ | ভাবড়াশুর | ১৪ | কাশালিয়া |
| ০৭ | মহারাজপুর | ১৫ | ননীক্ষীর |
| ০৮ | বাটিকামারী | ১৬ | জলিরপাড় |
গোপালগঞ্জের ইউনিয়নগুলো কেবল প্রশাসনিক সীমানা নয়, বরং এগুলো একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ অর্থনীতির কেন্দ্র।
কৃষি ও সেচ ব্যবস্থাপনা: কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ার ইউনিয়নগুলোর বিরাট অংশ বিল বেষ্টিত। এখানে ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ (ধাপ চাষ) একটি প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। ইউনিয়ন পরিষদগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাথে যৌথভাবে কৃষকদের বীজ, সার এবং সেচ সুবিধা প্রদানে কাজ করে।
মৎস্য আহরণ ও চাষ: বিলরুট ক্যানেল ও অন্যান্য নদী তীরবর্তী ইউনিয়নগুলোতে (যেমন- জলিরপাড়, ঘাঘর) মৎস্য চাষ স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান পেশা।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি: বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (TR/KABIKHA) কর্মসূচিগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমেই সরাসরি প্রান্তিক জনগণের কাছে পৌঁছায়।
১. গোপালগঞ্জ জেলায় মোট কতটি ইউনিয়ন রয়েছে?
গোপালগঞ্জ জেলায় ৫টি উপজেলার অধীনে সর্বমোট ৬৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।
২. জেলার কোন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ইউনিয়ন অবস্থিত?
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানে মোট ইউনিয়নের সংখ্যা ২১টি।
৩. সবচেয়ে কম ইউনিয়ন রয়েছে কোন উপজেলায়?
টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে কম ইউনিয়ন রয়েছে। এই উপজেলার অধীনে মাত্র ৫টি ইউনিয়ন অবস্থিত।
৪. বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স ও উলপুর জমিদার বাড়ি কোথায় অবস্থিত?
বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স টুঙ্গিপাড়ায় অবস্থিত এবং ঐতিহাসিক উলপুর জমিদার বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উলপুর ইউনিয়নে অবস্থিত।
৫. মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দি কোন উপজেলার অন্তর্গত?
ওড়াকান্দি ইউনিয়নটি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার অন্তর্গত। এটি মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান হিসেবে বিখ্যাত।
৬. প্রশাসনিক কাজের জন্য একটি ইউনিয়নের প্রধান কে থাকেন?
একটি ইউনিয়নের নির্বাচিত প্রধান হলেন ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান’। তার সাথে ৯ জন সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকেন।

মন্তব্য