খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ই জানুয়ারি ২০১৫, ১২:৪৬ পিএম
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জনপদ গোপালগঞ্জ কেবল রাজনীতি বা ঐতিহ্যের জন্যই নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও দীর্ঘকাল ধরে নিজস্ব স্বাক্ষর রেখে চলেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায় থেকে জাতীয় পর্যায়ে বহু প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরি করেছে এই জেলা। বিশেষ করে ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স এবং ব্যাডমিন্টনে গোপালগঞ্জের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসার, নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গন বর্তমানে একটি রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

গোপালগঞ্জের ক্রীড়া ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়টি রচিত হয়েছে ফুটবলের মাধ্যমে। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে গোপালগঞ্জ থেকে উঠে আসা ফুটবলাররা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন।
স্থানীয় উন্মুক্ত মাঠগুলোতে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে উঠে আসা এই খেলোয়াড়রা তাদের শৈলী ও দক্ষতার জন্য সমাদৃত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে খ্যাতি অর্জনকারী গোপালগঞ্জের বিশিষ্ট ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
এঁদের অনবদ্য অবদান কেবল গোপালগঞ্জের সুনামই বৃদ্ধি করেনি, বরং স্থানীয় তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় ক্যারিয়ার গড়তে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।
ফুটবলের পাশাপাশি অন্যান্য ইনডোর এবং আউটডোর খেলাধুলাতেও গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার (DSA) বিশেষ সাফল্য রয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় গোপালগঞ্জ জেলার অ্যাথলেটরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করে পদক জয় করেছেন। দৌড়, হাই জাম্প, লং জাম্পের মতো ইভেন্টগুলোতে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণের ফলস্বরূপ এই সাফল্য এসেছে।
গোপালগঞ্জ জেলার ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম বড় অর্জন হলো ব্যাডমিন্টনে জাতীয় পর্যায়ে শিরোপা জয়। ইনডোর গেম হিসেবে ব্যাডমিন্টন এই জেলায় অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শীত মৌসুমে প্রায় প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় এর চর্চা দেখা যায়।
যেকোনো জেলার ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণ হলো তার অবকাঠামো। গোপালগঞ্জে আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় খেলোয়াড়দের পেশাদার অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করেছে।
গুরুত্বপূর্ণ নোট: উন্নত অবকাঠামো নির্মাণের ফলে গোপালগঞ্জ জেলা আগামীতে জাতীয় পর্যায়ের বয়সভিত্তিক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রীড়া আসরগুলোর অন্যতম ভেন্যু হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলা ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রতিভা তুলে আনতে বছরজুড়ে বিভিন্ন লীগের আয়োজন করে থাকে। তাদের নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
স্থানীয় প্রশাসন ও ক্রীড়া সংগঠকদের সমন্বয়ে গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিচালিত হয়। পদাধিকারবলে গোপালগঞ্জ জেলার সুযোগ্য জেলা প্রশাসক (DC) এই সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। খেলাধুলার প্রসারে নিবেদিত এই সংস্থার উল্লেখযোগ্য পদ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের একটি রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
| পদের নাম | দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের নাম (প্রতিনিধিত্বমূলক) |
| সভাপতি | জেলা প্রশাসক, গোপালগঞ্জ (পদাধিকারবলে) |
| সহ-সভাপতি | বি এম হাসান কবির সানু, মোঃ সোহরাব হোসেন, ফকরুল হাসান ভিকু, আলী নাঈম খান (জিমি) |
| সাধারণ সম্পাদক | জসিমউদ্দিন খসরু |
| সহ-সাধারণ সম্পাদক | এম বি সাইফ (বি) |
| যুগ্ম সম্পাদক | আঃ মান্নান মানি, গাজী শফিকুর রহমান |
| কোষাধ্যক্ষ | মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক বনি |
| সদস্য | জাহেদ মাহমুদ (বাপ্পী), গোলাম কবির, শেখ মাহবুব আহমেদ কুটি, শফিকুল আলম কাকন, শরীফ ফারুক আহমেদ, সাফিক আহমেদ (ডিটু), জাহাঙ্গীর কবির, মোঃ বেলায়েত হোসেন, চৌধুরী বোরহান উদ্দিন টোটন, আনিচুজ্জামান সজীব, শেখ মেহেদী বিল্লাহ |
| সদস্য (সংরক্ষিত) | শিব শংকর অধিকারী, শেখ ফিরোজ আহম্মেদ |
| মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত) | মিসেস আমিন |
(বি.দ্র: ক্রীড়া সংস্থার কমিটি একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক কাঠামো, যা নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে নির্বাচনের মাধ্যমে পুনর্গঠিত হয়।)
১. গোপালগঞ্জের প্রধান স্টেডিয়ামটির নাম কী?
গোপালগঞ্জ জেলার প্রধান স্টেডিয়ামটির নাম নবনির্মিত ‘শেখ কামাল স্টেডিয়াম’, যেখানে ফুটবল, ক্রিকেটসহ নানা ধরনের আউটডোর খেলাধুলার আয়োজন করা হয়।
২. ফুটবলে গোপালগঞ্জ জেলার অবদান কেমন?
স্বাধীনতা-উত্তর সময় থেকে ফুটবলে গোপালগঞ্জের অসামান্য অবদান রয়েছে। সাত্তার সাহেব, সামাদ খান, মন্টু মিয়া এবং শিব শংকর অধিকারীর মতো খ্যাতিমান ফুটবলাররা এই জেলা থেকেই উঠে এসে জাতীয় পর্যায়ে আলো ছড়িয়েছেন।
৩. গোপালগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থা বছরে কী কী লীগের আয়োজন করে?
সংস্থাটি নিয়মিতভাবে ১ম ও ২য় বিভাগ ফুটবল এবং ক্রিকেট লীগ, কিশোর ফুটবল লীগ এবং বার্ষিক ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করে।
৪. নারী খেলোয়াড়দের জন্য গোপালগঞ্জে কী ধরনের সুবিধা রয়েছে?
নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে গোপালগঞ্জে একটি আধুনিক ‘মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।
৫. কোন ইনডোর খেলায় গোপালগঞ্জ জেলা জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে?
ব্যাডমিন্টনে গোপালগঞ্জ জেলা জাতীয় পর্যায়ে শিরোপা জয় করার গৌরব অর্জন করেছে।

মন্তব্য