খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জানুয়ারি ২০১৫, ৬:৩ পিএম
বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো জেলা প্রশাসন। ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর মহকুমা থেকে আলাদা হয়ে গোপালগঞ্জ একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গোপালগঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু হয়।
একটি নবগঠিত জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় এবং সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে। এই প্রশাসনিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেন জেলা প্রশাসক বা ডেপুটি কমিশনার (Deputy Commissioner – DC)।

জেলা প্রশাসক কেবল একটি পদ নয়, বরং এটি জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের একটি প্রতিষ্ঠান। একজন জেলা প্রশাসক মূলত তিনটি প্রধান সত্তায় কাজ করেন:
ডেপুটি কমিশনার (DC): জেলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকারের সকল নীতি ও পরিকল্পনা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং তদারকি করেন।
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM): জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন।
ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর: ভূমি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব আদায় এবং খাস জমি সংরক্ষণের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কাজ করেন।
প্রশাসনিক তথ্য পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রায়শই একটি বিভ্রান্তি দেখা যায়। অনেকেই ‘জেলা পরিষদ’ এবং ‘জেলা প্রশাসন’-কে একই প্রতিষ্ঠান মনে করেন, যা ধারণাগতভাবে ভুল।
জেলা পরিষদ: এটি স্থানীয় সরকার (Local Government) ব্যবস্থার একটি অংশ। এর প্রধান হলেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যাকে ‘জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান’ বলা হয়। এর মূল কাজ হলো স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতির বিকাশ।
জেলা প্রশাসন: এটি কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) সরাসরি নিয়ন্ত্রণাধীন মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ দপ্তর। এর প্রধান হলেন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যাকে ‘জেলা প্রশাসক’ বলা হয়।
নিচের অংশে মূলত ১৯৮৪ সালে জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় দায়িত্ব পালনকারী পূর্বতন জেলা প্রশাসকগণের (DC) একটি প্রামাণ্য তালিকা তুলে ধরা হলো।
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অনেক দক্ষ ও প্রজ্ঞাবান কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথম জেলা প্রশাসক এ. এফ. এম. এহিয়া চৌধুরী থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক নং | জেলা প্রশাসকের নাম | পদবি | কার্যকাল |
| ০১ | এ. এফ. এম. এহিয়া চৌধুরী | জেলা প্রশাসক | ০৪-০৩-১৯৮৪ হতে ১৪-০৮-১৯৮৬ |
| ০২ | এ. এইচ. এম. মাসুদ | জেলা প্রশাসক | ১৪-০৮-১৯৮৬ হতে ০৪-০১-১৯৮৮ |
| ০৩ | মো. খালেকুজ্জামান | জেলা প্রশাসক | ০৪-০১-১৯৮৮ হতে ২৩-০৯-১৯৮৯ |
| ০৪ | সা. জ. ম. আক্রামুজ্জামান | জেলা প্রশাসক | ২৮-০৯-১৯৮৯ হতে ০৫-০৫-১৯৯২ |
| ০৫ | মো. আব্দুল মোতালেব মিয়া | জেলা প্রশাসক | ২২-০৮-১৯৯২ হতে ২০-১০-১৯৯৫ |
| ০৬ | এ. জে. এম. সালাউদ্দিন আহমেদ | জেলা প্রশাসক | ১৬-১০-১৯৯৫ হতে ০১-০৭-১৯৯৭ |
| ০৭ | নাসির উদ্দিন | জেলা প্রশাসক | ১৪-০৭-১৯৯৭ হতে ০৫-০৩-১৯৯৯ |
| ০৮ | ইকবাল মাহমুদ | জেলা প্রশাসক | ০১-০৫-১৯৯৯ হতে ২৭-০১-২০০১ |
| ০৯ | মো. গোলাম রব্বানী (ভারপ্রাপ্ত) | জেলা প্রশাসক | ২৭-০১-২০০১ হতে ০২-০৩-২০০১ |
| ১০ | একরাম আহমেদ | জেলা প্রশাসক | ০২-০৩-২০০১ হতে ২২-০৫-২০০২ |
| ১১ | মো. আব্দুস সাত্তার | জেলা প্রশাসক | ২১-০৫-২০০২ হতে ১৮-০১-২০০৪ |
| ১২ | মো. আব্দুর রউফ | জেলা প্রশাসক | ১৮-০১-২০০৪ হতে ১৮-০৪-২০০৬ |
| ১৩ | জাহাঙ্গীর আলম | জেলা প্রশাসক | ১৮-০৪-২০০৬ হতে ১৯-১১-২০০৬ |
| ১৪ | এ. এম. এ. রহমান | জেলা প্রশাসক | ১৯-১১-২০০৬ হতে ১৮-০২-২০০৮ |
| ১৫ | এস. এম. আশফাক হুসেন | জেলা প্রশাসক | ১৯-০২-২০০৮ হতে ২১-০৪-২০০৯ |
| ১৬ | শেখ ইউসুফ হারুন | জেলা প্রশাসক | ২১-০৪-২০০৯ হতে ০৪-১১-২০১২ |
| ১৭ | মো. খলিলুর রহমান | জেলা প্রশাসক | ০৪-১১-২০১২ হতে ১৫-০৯-২০১৬ |
| ১৮ | মোহাম্মদ মোখলেসুর রহমান সরকার | জেলা প্রশাসক | ১৫-০৯-২০১৬ হতে ২৩-০৬-২০১৯ |
| ১৯ | শাহিদা সুলতানা | জেলা প্রশাসক | ২৩-০৬-২০১৯ হতে ০৪-১২-২০২২ |
গোপালগঞ্জ জেলার আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট অন্যান্য জেলার তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। বঙ্গবন্ধুর জন্মস্থান হওয়ায় এই জেলার প্রতি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের একটি বিশেষ নজর রয়েছে। পর্যটন, কৃষি, অবকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে জেলা প্রশাসকগণ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং জনপ্রতিনিধিদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে আসছেন। বিশেষ করে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা, ভিআইপি প্রটোকল এবং জাতীয় শোক দিবসের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে জেলা প্রশাসনকে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে নেতৃত্ব দিতে হয়।
১. গোপালগঞ্জ জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক কে ছিলেন?
গোপালগঞ্জ জেলার প্রথম জেলা প্রশাসক ছিলেন এ. এফ. এম. এহিয়া চৌধুরী। তিনি ৪ মার্চ ১৯৮৪ থেকে ১৪ আগস্ট ১৯৮৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
২. জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং জেলা প্রশাসকের মধ্যে পার্থক্য কী?
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হলেন স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার অধীন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক হলেন কেন্দ্রীয় সরকারের নিযুক্ত বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা।
৩. গোপালগঞ্জ কবে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়?
গোপালগঞ্জ ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ ফরিদপুর মহকুমা থেকে আলাদা হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে।
৪. জেলা প্রশাসকের প্রধান কাজগুলো কী?
জেলা প্রশাসকের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে—জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সরকারি নীতি বাস্তবায়ন, ভূমি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।
৫. জেলা প্রশাসন কার অধীনে কাজ করে?
জেলা প্রশাসন সরাসরি বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে।

মন্তব্য