গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪ নেতা গ্রেফতার

গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৪ নেতা গ্রেফতার করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী দিদার হত্যা এবং সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

 

গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ৪ নেতা গ্রেফতার

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিলন মুন্সী, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম, সদরের ছাত্রলীগ কর্মী সাব্বির মুন্সী এবং রানা মোল্লা। এর মধ্যে দিদার হত্যা মামলায় তিন জন ও সেনাবাহিনীর ওপর হামলা মামলায় একজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মামলার পর থেকে দীর্ঘদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন তারা। পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে শনিবার রাতে যার যার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ সেপ্টেম্বর বিকালে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রামে অনুষ্ঠিত এক পথসভা শেষে নিজ গ্রাম টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন। বিকাল সাড়ে ৫টায় সদর উপজেলা ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা মাইকিং করে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে গাড়িবহরে হামলা করেন। এতে জিলানীসহ সংগঠনের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। তখন ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

ঘটনাস্থলের কাছে পাথালিয়া বাংলালিংক টাওয়ারের পাশ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শওকত আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর বিকালে নিহত শওকত আলীর স্ত্রী রাবেয়া রহমান বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য গোপালগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমসহ ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাত এক হাজার ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে বাধ্য করার প্রতিবাদে ১০ আগস্ট বিকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর বাসস্ট্যান্ডে দেশি অস্ত্র নিয়ে মহড়া, বিক্ষোভ সমাবেশ করেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এতে মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জে কর্তব্যরত সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মহাসড়ক ছেড়ে দিতে বলেন। তখন সেনাসদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীরা বাগবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে তারা সেনাসদস্যদের ওপর হামলা করেন।

এতে সেনাবাহিনীর চার কর্মকর্তাসহ ৯ জন আহত হন। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর দুটি রাইফেল, ছয়টি ম্যাগাজিন ছিনিয়ে নিয়ে একটি গাড়িতে আগুন ও দুটি গাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। পরে দুটি অস্ত্র ও তিনটি তিনটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে সেনাবাহিনী। এসব ঘটনায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ১০৬ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি ৩ হাজার ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

Leave a Comment